মাদক মামলার জটে সুবিধা পাচ্ছে আসামিরা, পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ২৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ দুপুর
  • ২৮৭৭৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে এবং এর সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই আসামিরা সুবিধা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক মাদক কারবারীর সশস্ত্র বাহিনী থাকলেও অভিযান পরিচালনাকারী অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে প্রয়োজনীয় অস্ত্র নেই। এ অবস্থাকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি জানান, দেশে মাদক শনাক্তকরণের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার না থাকায় জব্দ করা মাদকের নমুনা দ্রুত পরীক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আদালতগুলো বিপুলসংখ্যক মামলা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার এই জট নিরসনে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের পাশাপাশি এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও এসব মামলা নিষ্পত্তি করবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের বিধান রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা নিশ্চিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, অপরাধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, অবৈধ অর্থ পাচার এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বাড়ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী ও আধুনিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদক আইনের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং ও সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত আইনও যুগোপযোগী করা হবে। একই সঙ্গে আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শক্তিশালী আইনি ভিত্তি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad