তাপ ও বর্ষার দ্বিমুখী চাপে রাজধানীর বাজারে অস্থিরতা, মুরগি-চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী

  • মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ দুপুর
  • ২০১২১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বর্ষাকাল, সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে চাল, শাক-সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, তীব্র গরমে খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। অনেক খামারি লোকসানের আশঙ্কায় পূর্ণবয়স্ক হওয়ার আগেই মুরগি বাজারজাত করছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক খামারে নতুন করে বাচ্চা তোলা হয়নি, ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

কারওয়ান বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, পাইকারি পর্যায়েই দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। সরু চালের মধ্যে নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম গত এক মাসে কেজিপ্রতি প্রায় ২ টাকা বেড়ে ৮৫ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোলাওয়ের চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি প্রায় ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করছেন, খুচরা বাজারে সেই প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়।

বর্ষার প্রভাবে সবজির বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বেগুন ও করলা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পটল, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় এসব সবজির দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে আলু ও পেঁয়াজের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নয়াবাজারের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন তিনি।

মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এর দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি ডাল ও চিনির মতো নিত্যপণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্ষার কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং উৎপাদন সংকট—এই তিন কারণেই বাজারে মূল্য অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর এক ক্রেতা বলেন, সবজির দাম কোনোভাবে সামাল দেওয়া গেলেও চাল ও মুরগির বাড়তি দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। তাদের মতে, মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নিয়মিত তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad