গাজা উপত্যকায় চলমান ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে নিজের ‘ভালো লাগছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে তা কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং নিরাপত্তাজনিত হুমকি দূর করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা একটি ‘পরিকল্পিত নীতি’র ফল।
সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে কাৎজ এসব মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে গাজার ধ্বংসস্তূপ দেখে তার অনুভূতি জানতে চাইলে কাৎজ বলেন, “ভালো লাগছে, তাই না?”
তিনি আরও বলেন, অতীতে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে ফিরে আসত। তবে সেই কৌশল এখন পরিবর্তন করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইলি সেনারা গাজার অভ্যন্তরে অবস্থান করছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং বহু স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর গাজায় স্থায়ীভাবে ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি সেখানে তিনটি ‘নাহাল আউটপোস্ট’ (সামরিক ঘাঁটি-সংযুক্ত বসতি) গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান।
২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা ও বসতি প্রত্যাহারের আগে উত্তর গাজায় এ ধরনের আউটপোস্ট ছিল। অতীতে এসব সামরিক আউটপোস্ট পরবর্তীতে বেসামরিক ইহুদি বসতিতে রূপান্তরের নজিরও রয়েছে।
কাৎজের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এর মাধ্যমে উত্তর গাজায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার প্রতিরক্ষা জোরদার করা সম্ভব হবে।
এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া গাজা উপত্যকার প্রায় ৯১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক