গ্যাস সংকট নিরসনে আরও ১০-১৫ দিন সময় লাগবে: জ্বালানিমন্ত্রী

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ রাত
  • ১৪৮৯৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশে চলমান গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সরকার, পেট্রোবাংলা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘Navigating Global Shifts: Fostering Energy Security and Resilience in Bangladesh’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এদিকে পৃথক এক ব্রিফিংয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গ্যাস সংকটের কারণে ভোগান্তিতে থাকা দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে।

জ্বালানিমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বেসরকারি খাতের পরিচালনায় রয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট এনার্জির একটি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলেই সারা দেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, অতীত সরকারের সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পরিবর্তে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে। ফলে বর্তমানে এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। গত ছয় মাসে জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুটেরও বেশি। অথচ দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১৭৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে, যা সংকটকে আরও প্রকট করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক নিম্নচাপের সমস্যায় ভুগবেন। পাশাপাশি অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকরাও সরবরাহ সংকটের মুখে থাকবেন।

তিনি আরও জানান, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। বর্তমানে একটি টার্মিনালের সক্ষমতা অর্ধেকে নেমে আসায় সারাদেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

মেরামত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও যৌথভাবে কাজ করছে। প্রথমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এক্সিলারেট এনার্জির আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস বিমানযোগে দেশে এনে দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্রের মাধ্যমে মেরামত কাজে ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad