রোববার রাত ২টার দিকে উপজেলার ‘মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টার’-এ এ ঘটনা ঘটে।
তেল বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগপ্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে সরকার তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়ার পর মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাম্প বন্ধ করে কর্মচারীরা চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় ফিলিং স্টেশনের মূল ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাম্পের ডিজিটাল সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, রাত ১২টার পর বাড়তি দামে তেল বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার উদ্দেশ্যে মালিক শাহ আলমের নির্দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল।
প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগরাত ১২টার দিকে পাম্প মালিক শাহ আলম মেশিনে নতুন বর্ধিত মূল্য সেটআপ শুরু করলে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষমাণ গ্রাহকরা প্রতিবাদ করেন। তারা আগের নির্ধারিত মূল্যে তেল দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি ভারী লোহার রড নিয়ে গ্রাহকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও গ্রাহক মাহবুবুর রহমান আহত হন।
পাম্প চত্বরে অরাজকতার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং সেন্টারটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মালিকের দাবি, বিদ্যুৎ ত্রুটিতে বিক্রি বন্ধতবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিলিং স্টেশনের মালিক শাহ আলম। তিনি দাবি করেন, ফিলিং স্টেশনে পূর্বের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে।
শাহ আলমের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। বরং তাদের কর্মচারীদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স