মামলা নিষ্পত্তির চিত্রে দেখা যায়, গত এক মাসে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে পূর্ণ বিচারে ২৯৮টি এবং আমলী আদালতগুলোতে পূর্ণ বিচারে ৬৯৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক মাসে সর্বমোট ৯৯২টি মামলা বিচারে শেষ হয়েছে।
একই সময়কালে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় খালাস পেয়েছেন ২৭৮ জন আসামি। অন্যদিকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সাজা প্রদান করা হয়েছে ১৪০ জন আসামিকে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারক স্বল্পতা এবং নিয়মিত মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মামলার এমন জট তৈরি হচ্ছে। এতে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে বিচারপ্রার্থী নাজমুল আশরাফ রনি জানান, তিনি একটি মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। অথচ মামলাটি শেষ হচ্ছে না। যে গতিতে মামলা এগোচ্ছে, তাতে তার মামলা নিষ্পত্তি হতে আরও দুই থেকে তিন বছর লাগবে।
বিচারপ্রার্থী মাহমুদা বেগম জানান, একটার পর একটা শুনানির তারিখ পড়ে, কিন্তু মামলার শুনানি হয় না। প্রতি তারিখে আদালতে আসতে হয়। খরচ হয় মোটা টাকা। কিন্তু মামলা শেষ হচ্ছে না।
ঝিনাইদহের গান্না বাজারের আব্দুস সাত্তার মন্ডল জানান, বিগত সরকারের আমলে ২০২০ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি মামলার শিকার হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। এই মামলার পেছনে তিনি মোটা টাকা খরচ করে ফেলেছেন। অথচ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি মামলার ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আকিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে যে হারে নতুন মামলা দায়ের হয়, তার তুলনায় নিষ্পত্তির এই গতি বিশাল মামলা জট কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে অনেক সাধারণ মানুষকে সামান্য অপরাধ বা বিরোধের নিষ্পত্তির জন্যও বছরের পর বছর আদালতে ধর্না দিতে হচ্ছে। দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় মূলতবি কমানো এবং বিচারক সংকট দূর করার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
বিচারিক গতি বাড়িয়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার জট কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলার প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মশিয়ূর রহমান বলেন, মামলার এই বিশাল জট কমাতে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, এজলাস সংকট দূর করা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক