শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙন
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর, বারপাখিয়া ও কুরসি এলাকায় যমুনার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, গত এক বছরে এসব এলাকায় প্রায় তিন থেকে চার শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ধীতপুর ও কুরসি এলাকায় দুই শতাধিক বাড়িঘরের পাশাপাশি তিনটি মসজিদ, একটি মাদরাসা ও দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদীগর্ভে গেছে। প্রায় তিন হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইতোমধ্যে বারপাখিয়া গ্রামটি পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়েছে। শ্রীপুর, ধীতপুর ও কুরসিসহ কয়েকটি গ্রামের বসতভিটা ও আবাদি জমি রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে।
ধীতপুর গ্রামের বাসিন্দা ফাহিমা বেগম ৬০ বছর বয়সে নদীভাঙনে ১০ বার বসতভিটা হারিয়েছেন। বর্তমানে অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছেন। সেই আশ্রয়ও এখন ভাঙনের মুখে।
স্থানীয় আব্দুর রহমান বলেন, বাড়ি নদী থেকে অনেক দূরে মনে হয়েছিল। পানি দেখে ভাত খেতে বসেছিলেন। খাওয়া শেষ করার আগেই বাড়ির বড় একটি অংশ নদীতে চলে যায়।
সবজি ব্যবসায়ী আবু শামা বলেন, হাটটি নদীতে বিলীন হওয়ায় তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ায় ধীতপুর গ্রামের শিক্ষার্থীদের এখন মাদরাসার টিনের ঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মখলেসুর রহমান বলেন, চরাঞ্চল হওয়ায় সোনাতনী ইউনিয়নে বর্তমানে ভাঙনরোধে কোনো প্রকল্প চলমান নেই। তবে চরাঞ্চলের উন্নয়নে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিন জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং পুনর্বাসনের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।
জাজিরায় পদ্মায় প্রবাসীর বাড়ি বিলীন
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলমখাঁর কান্দিতে পদ্মার ভাঙনে মালয়েশিয়া প্রবাসী জুলহাস খানের পুরো বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
গত সোমবার দুপুরে তীব্র ভাঙনের সময় বাড়িটিতে ধস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো বাড়ি নদীতে চলে যায়। প্রবাসে উপার্জন করে তৈরি করা বসতবাড়ি চোখের সামনে নদীতে বিলীন হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিলটন হোসেন বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার বিষয়ে তাঁরা অবগত আছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নকলায় মৃগী নদীর ভাঙনে বিচ্ছিন্ন জনপদ
শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া নামাপাড়া ও দড়িপাড়া গ্রামে মৃগী নদীর ভাঙন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি, বাঁশঝাড় ও গাছপালা বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনে চরমধুয়া নামাপাড়ার মানুষের চলাচলের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটিও নদীতে চলে গেছে। এতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের জনপদটি অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি বছর চরমধুয়া নামাপাড়া ও দড়িপাড়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মধুমতীর ভাঙনে ঝুঁকিতে কয়েকটি গ্রাম
ফরিদপুরের মধুখালীতে বর্ষায় মধুমতী নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও তীব্র হয়েছে। উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী ৮ থেকে ১০টি গ্রাম বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে চরগয়েশপুর, বকসীপুর, চরপুকুরিয়া, বহুলবাড়িয়া ও চর বহুলবাড়িয়ায় শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের পুনর্বাসন নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, পানিবন্দি ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে ইতোমধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক