স্থানীয়দের অভিযোগ, বমু খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আবেদন-নিবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একাধিকবার লোকজন এসে মাপজোখ করলেও সেতু নির্মাণের কাজ এগোয়নি।
বই মাথায় নিয়ে খাল পারাপারপ্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হয় শিশুরা। বমু খালের কাছে এসে তাদের পার হতে হয় প্রবল স্রোতের পানি। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলের পোশাক কোমর পর্যন্ত গুটিয়ে নিয়ে খালে নামে। কেউ কেউ বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ মাথার ওপর তুলে ধরে পানি পার হয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী পাউঙি ম্রো এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাংইয়ং ম্রোর মতো অনেক শিশুকেই প্রতিদিন এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সঙ্গে বাবা বা বড় কেউ না থাকলে শিশুদের জন্য খাল পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পানিতে পা পিছলে গেলে স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কোনো সাময়িক পরিস্থিতি নয়; গজালিয়া ইউনিয়নের দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের বাস্তবতা এটি।
কৃষকদেরও দুর্ভোগশুধু শিক্ষার্থী নয়, বমু খাল পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদেরও। খালের পাড়ে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক পাহাড়ে উৎপাদিত ফসল বাঁশের তৈরি থ্রম্নং (ঝুড়ি) ভর্তি করে নিয়ে আসছেন। খাল পার হয়ে সুবিধাজনক স্থানে ফসল নিতে পারলে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব বলে জানান স্থানীয়রা।
‘মাপজোখ হয়, কাজ হয় না’বাইশফাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় স্থানীয় এনজিও কর্মী অংথোয়াইনু মারমা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা তুলে ধরে বলেন, সেতু নির্মাণের কথা বলে বহুবার লোকজন এসে মাপজোখ করে গেছে। ফিতা দিয়ে জায়গা চিহ্নিত করলেও পরে আর কোনো কাজ হয় না।
তিনি বলেন, ফাইল চালাচালির মধ্যেই দুর্গম এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আটকে আছে। দিনের বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খালের স্রোতও বাড়ে। বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীদের আবার একই ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, তারা আর শুধু মাপজোখ বা আশ্বাস চান না। বমু খালের ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক