শুক্রবার বিএজের গবেষণা ও মনিটরিং সেল সম্পাদক মাহমুদুল হাছান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত সংবাদকর্মীদের মধ্যে ৪০ জন শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া আটজন আইনি হয়রানির মুখে পড়েছেন এবং ২২ জন সরাসরি হুমকি, হেনস্তা ও পেশাগত কাজে বাধার শিকার হয়েছেন।
হামলা ও বাধার অভিযোগবিএজের প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুতর ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। কক্সবাজারে এক সাংবাদিকের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে একটি কিশোর গ্যাং। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্যাং সদস্যরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালিয়ে ওই সাংবাদিকের মাকে পিটিয়ে এবং ছোট ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চাঁদপুরের কচুয়ায় এক যুবকের বিরুদ্ধে তার ভাতিজিকে ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে পথরোধ করে হামলা এবং তাঁর সঙ্গে থাকা শিশুকন্যাকে মারধরের অভিযোগও উঠে এসেছে।
ঢাকার পল্লবীতে ‘আশিক গ্রুপ’-এর চাঁদাবাজি নিয়ে সংবাদ প্রচারের জেরে সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের বাসায় গভীর রাতে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। মিরপুরে অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত ছয় সাংবাদিককে ঘেরাও, ধাওয়া ও মারধর, ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং টেলিভিশনের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা ও আইনি হয়রানির অভিযোগনওগাঁয় জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় এক সাংবাদিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করার অভিযোগও প্রতিবেদনে এসেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে আগে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলার বাদী ওই সাংবাদিককে চেনেন না বলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন—এমন দাবিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বরগুনায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার এক সাংবাদিকের ডোপ টেস্ট করানোর বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর পরিবারের দাবি, মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক। এজাহারে মাদক সেবন বা বহনের অভিযোগ না থাকলেও তাঁকে ডোপ টেস্ট করানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় তাঁর শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরে তাঁকে দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
এ ছাড়া ঘাটাইলে পৌরসভার উন্নয়নকাজ ও আর্থিক হিসাবের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করায় এক সাংবাদিককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফোন করে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ‘অফেন্সিভ মোডে’ যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবিবিএজের গবেষণা ও মনিটরিং সেল বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পেশাগত কাজে বাধা ও আইনি হয়রানির পেছনে আইনের শাসনের ঘাটতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দায়ী। এসব ঘটনা মুক্ত গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
সংগঠনটি প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক