অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে বেতন নির্ধারণ করা হবে। এজন্য চাকরিজীবীদের নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের তথ্য দিতে হবে।
যাচাই হবে পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্যচাকরিজীবীদের আগে কোনো পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্যও দিতে হবে। এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রেখে তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর এনআইডি না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।
অনলাইনে তথ্য এন্ট্রির পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই-বাছাই করবে। তথ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে। বেতন নির্ধারণ নির্বিঘ্ন করতে অর্থ বিভাগের ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ) এবং জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন বিল এবং বকেয়া পাওনার হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে।
তিন ধাপে কার্যকর হবে নতুন মূল বেতন২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুনে বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় করা হবে।
প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পুরো নতুন মূল বেতন পাবেন।
চলতি অর্থবছরে বর্ধিত মূল বেতন পরিশোধের জন্য সরকার ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
উচ্চতর গ্রেডে নতুন বিধাননতুন বেতন আদেশে পদোন্নতি ছাড়া সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং এর পরবর্তী ছয় বছর পূর্তিতে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে একই পদে অতীতে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়া কর্মীদের নতুন কাঠামোয় সমন্বয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় নিরসনে কাজ করছে অর্থ বিভাগ।
নির্দেশনা অনুযায়ী, অতীতে একই পদে একাধিক উচ্চতর সুবিধা পাওয়া থাকলে নতুন কাঠামোয় আর অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে না। তবে একটি উচ্চতর স্কেল পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে চাকরিজীবীদের চাকরির ইতিহাস ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নতুন বেতন এবং বকেয়া পাওনার চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করার কথা রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক