স্থানীয়রা জানান, মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ২১০ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ অংশের দূরত্ব ৬৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এ রুটে বর্তমানে হাওর এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ও মহুয়া কমিউটার ট্রেন চলাচল করলেও স্বল্প ব্যয়ে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য লোকাল ট্রেনটির ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল ছিলেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, লোকাল ট্রেনটি প্রতিদিন ময়মনসিংহ থেকে ভোর ৫টা ৪০ মিনিট ও দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মোহনগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যেত। বিপরীতে মোহনগঞ্জ থেকে সকাল সাড়ে ৮টা ও বিকেল সাড়ে ৫টায় ময়মনসিংহের উদ্দেশে চলাচল করত। শম্ভুগঞ্জ, বিশকা, গৌরীপুর, শ্যামগঞ্জ, চল্লিশানগর, নেত্রকোনা বড় স্টেশন, নেত্রকোনা কোর্ট, ঠাকুরাকোনা, বারহাট্টা ও অতিথপুরসহ রুটের বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা নিয়মিত এ ট্রেনে যাতায়াত করতেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলেন, সকালে কর্মস্থলে যাওয়া এবং বিকেলে বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনটি ছিল সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী পরিবহন। আগে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায় নিরাপদে যাতায়াত করা গেলেও ট্রেন বন্ধ থাকায় এখন বাধ্য হয়ে বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় চলাচল করতে হচ্ছে। এতে জনপ্রতি ২০০ টাকারও বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কপথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে।
দুই বছর ধরে ট্রেন না থাকায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ নিম্ন আয়ের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, রেলপথে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে একটি লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখা সাধারণ মানুষের প্রতি অবহেলার শামিল।
মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে ইঞ্জিন-স্বল্পতার কারণে ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটের লোকাল ট্রেনটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। ইঞ্জিন সংকট কেটে গেলে ট্রেনটি পুনরায় চালু করা হবে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ট্রেনটি বাতিল করা হয়নি।’
ময়মনসিংহের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ইঞ্জিন সংকটের কারণে অনেক আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনও বন্ধ রয়েছে। ইঞ্জিন ও জনবল সংকট দূর হলে ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেনটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রেনটি বাতিল হয়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা লোকাল ট্রেনটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, ইঞ্জিন-স্বল্পতার বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ট্রেনটি যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় চালু করা প্রয়োজন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক