আড়াইহাজারে কুকুরের কামড়ে দুই দিনে আহত

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৪ দুপুর
  • ১০০৬৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি :এআই দ্বারা নির্মিত
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। গত দুই দিনে কুকুরের কামড়ে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া চৈতানকান্দা, দয়াকান্দা, উচিৎপুরা ও বালুয়াকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকাতেও কুকুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে।

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স নার্গিস আক্তার জানান, বুধবার কুকুরের কামড়ে আহত ৩৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আরও ১৯ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। একসঙ্গে এত রোগী আসায় তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জাঙ্গালিয়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসেম বলেন, কয়েক দিন ধরে একটি কুকুর এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সুযোগ পেলেই সেটি মানুষকে কামড় দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বালুয়াকান্দি মাদরাসার শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে একটি কুকুরের কামড়ে তিনজন আহত হয়েছেন। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় রাস্তাঘাটে চলাচল করতেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় শিশুদের একা বাইরে পাঠাতে চাইছেন না অভিভাবকেরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আরিফ ভূঁইয়া বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত ৫৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে টিকা থাকায় কাউকেই ঢাকায় রেফার করা হয়নি।

তিনি বলেন, কুকুর কামড়ালে ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। ক্ষতস্থানে মাটি, চুন, মরিচ বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান দেওয়া উচিত নয়। এরপর দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্কের টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান বলেন, কুকুর নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না। তবে আক্রান্ত কুকুরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ভ্যাকসিন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী বলছেন, দ্রুত কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad