নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলায় মামলা, ছাত্রদল নেতার বক্তব্যে চাঞ্চল্য

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর
  • ৬১৪৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাতের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর রাতে এনসিপির কুষ্টিয়া শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস টনি কুমারখালী থানায় মামলাটি করেন। এর আগে ৪ অক্টোবর রাতে কুষ্টিয়ার লালন শাহের মাজার থেকে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রাতে লালন শাহের মাজার পরিদর্শন শেষে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। হামলাকারীরা লাঠি, বাঁশ, পাইপ, লোহার রড, পাথর ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় তাঁর ব্যবহৃত গাড়িও।

পরে পুলিশি প্রহরায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির অন্য নেতারা মাজার প্রাঙ্গণ থেকে নিরাপদে বের হয়ে যান।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর রাতে মামলা করতে কুমারখালী থানায় গেলে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা থানা ঘেরাও করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। নিরাপত্তার কারণে তাঁরা থানা থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

ছাত্রদল নেতার বক্তব্য ঘিরে আলোচনা

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারি কলেজে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “উত্তম-মাধ্যম কে দিয়েছে, আমি জোর গলায় বলতে পারি—আমারই এক ছোট ভাই ছিল।”

তাঁর এই বক্তব্যের পর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। তবে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে হামলায় কারা সরাসরি জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এনসিপির

শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, হামলার পর তাঁদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার সময় কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছিলেন, তাঁর ওপর চাপ রয়েছে এবং আসামিদের নাম উল্লেখ করলে তিনি মামলা নিতে পারবেন না। এ কারণে বাধ্য হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ছাত্রদল নেতা নিশাতের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে সুলতান মারুফ তালহা বলেন, তাঁরা পুলিশের যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা দেখতে চান। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।

গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

তথ্যসূত্র: জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া; প্রকাশিত ও হালনাগাদ ৯ অক্টোবর ২০২৬। প্রতিবেদনটি মামলার এজাহার, এনসিপি নেতার বক্তব্য এবং পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad