উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মতলব ট্রেডিং। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. মোফাজ্জল হোসেন কাজটি তদারক করছিলেন। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি ঝুলে আছে।
রাজনৈতিক হুমকির কথা বলছেন স্থানীয়রাস্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঠিকাদার মো. মোফাজ্জল হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। তিনি চাঁদপুর-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২২ সালের মাঝামাঝি তিনি কাজ ফেলে এলাকা ছাড়েন বলে জানান স্থানীয়রা।
তবে ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবার একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বৃষ্টি হলেই কাদা, তৈরি হয় গর্তসড়কটির কিছু অংশে ইটের খোয়া বিছানো থাকলেও বেশির ভাগ অংশের বেহাল অবস্থায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। বৃষ্টি হলে কাঁচা সড়কে পানি ও কাদা জমে যায়। সৃষ্টি হয় গর্ত ও খানাখন্দের। এতে প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
মেহেরণ গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল দাস বলেন, মেহেরণ, খর্গপুর, নারায়ণপুর, আশ্বিনপুর, চারটভাঙা, মাছুয়াখাল ও কালিকাপুরসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। সাত থেকে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও এ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টি হলে কাদা ও গর্তের কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আবুল কালাম, মেহেরণ এলাকার নগেন্দ্র দাসসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ বন্ধ থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত, নতুন ঠিকাদারের অপেক্ষাউপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি কাজ শেষ করেননি। এ কারণে ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য এলজিইডির চাঁদপুর কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদপুর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়নকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
এলজিইডির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ থাকা সড়কটির কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। ফলে দ্রুত উন্নয়নকাজ পুনরায় শুরু করে চলাচল স্বাভাবিক করার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তথ্যসূত্র:‘চার বছর ধরে সড়কের কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ’, প্রকাশিত ১৫ অক্টোবর ২০২৬; স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর বক্তব্য।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক