দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে, ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অনিরাপদ খাদ্য

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ বিকাল
  • ৪৮৯৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি : এআই দিয়ে তৈরি
দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের কারণ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। এসব রোগের অন্যতম ঝুঁকির কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি বাড়তে থাকা নির্ভরশীলতা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যাকেটজাত খাবারের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা সংবলিত লেবেল বাধ্যতামূলক করার বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা আয়োজিত ‘অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-প্যাকেটের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এতে সহযোগিতা করে।

ওয়েবিনারে জনস্বাস্থ্যবিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেলিং বা ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। খাদ্যশিল্পের হস্তক্ষেপমুক্ত রেখে এ-সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত করা প্রয়োজন।

৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার খান

ওয়েবিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার এসব খাবার খান।

প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য অনেক ভোক্তার পক্ষে সহজে বোঝা সম্ভব হয় না। ফলে খাবারের পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। প্যাকেটের সামনে সহজবোধ্য ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা খাবার নির্বাচনের সময় ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন বলে মনে করেন বক্তারা।

তাঁদের মতে, বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল চালু হলে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়বে এবং খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সহায়তা মিলবে।

খসড়া প্রবিধানমালা এখন খাদ্য মন্ত্রণালয়ে

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, এফওপিএল-সংক্রান্ত ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর খসড়া বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও কাজ চলছে। প্রবিধানমালাটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ওয়েবিনারে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশি-বিদেশি খাদ্যশিল্পের বিভিন্ন অংশীজন বাধ্যতামূলক লেবেলিংয়ের পরিবর্তে স্বেচ্ছামূলক ব্যবস্থা চালু, বাস্তবায়নের সময় বাড়ানো, ছোট প্যাকেটকে ছাড় দেওয়া এবং সতর্কবার্তার বদলে কম দৃশ্যমান বা বিভ্রান্তিকর লেবেল ব্যবহারের মতো দাবি তুলছেন। এসব চাপের কারণে খসড়া প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে তাঁদের বক্তব্য।

স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে পারে সতর্কতামূলক লেবেল

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগী বিজ্ঞানী আবু আহমেদ শামীম বলেন, প্যাকেটজাত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের স্পষ্ট ধারণা দিতে সতর্কতামূলক এফওপিএল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, এফওপিএল বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৩.৪ নম্বর লক্ষ্য অর্জনের পথ আরও সুগম হতে পারে।

ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার সামিনা ইসরাত এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের পরামর্শক আমিনুল ইসলাম সুজন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad