যমুনা নদীর ভাঙনে ২০২৩ সালে কাওয়াকোলা কমিউনিটি ক্লিনিকটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে সয়াশিশা বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের, বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নিতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হতো।
সুইস রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বাস্তবায়নাধীন যমুনা প্রকল্পের আওতায় ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর ফলে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। স্থানীয় মানুষের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন খন্দকার বলেন, নদীভাঙনে ক্লিনিকটি বিলীন হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পুনর্নির্মিত ক্লিনিকের মাধ্যমে এলাকার মানুষ সহজে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিরাজগঞ্জ ইউনিটের যমুনা প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া বলেন, যমুনা প্রকল্প চরাঞ্চলের মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে অবদান রাখছে। ক্লিনিক পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান টিএম শাহাদাৎ হোসেন ঠান্ডু এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে ইউনিয়নের শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপির নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সরবরাহ করা প্রতিবেদন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক