ঈদযাত্রায় প্রস্তুত আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ মে ২০২৬, ০৩:৫২ দুপুর
  • ৪৬৪১৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ঈদযাত্রায় প্রস্তুত আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট

২২ ফেরি, ৩২ লঞ্চ ও ৬৫ স্পিডবোট চলাচলের প্রস্তুতি; যাত্রী ভোগান্তি কমার আশা সংশ্লিষ্টদের


পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আরিচা-কাজিরহাট এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে দুই নৌরুটে মোট ২২টি ফেরি, ৩২টি লঞ্চ ও ৬৫টি স্পিডবোট চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫টি ফেরি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করবে। এছাড়া আরিচা-কাজিরহাট রুটে ১২টি লঞ্চ ও ৬৫টি স্পিডবোট এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ২০টি লঞ্চ চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে দুই নৌরুটে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস ও কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ সামাল দিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের আগে ও পরে সাধারণ ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পণ্যবাহী ও পশুবাহী যানবাহন পারাপারের সুযোগ রাখা হবে। ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত মেরামতের জন্য পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ভাসমান কারখানা ‘মধুমতি’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ কিলোমিটার। তবে যমুনা নদীতে চর জেগে ওঠায় ফেরিগুলোকে অতিরিক্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে একটি ফেরির গন্তব্যে পৌঁছাতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগছে। নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট সার্ভিস সচল রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরির মধ্যে ৯টি রো-রো এবং ৮টি মাঝারি ও ছোট ফেরি চলাচল করবে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ নৌপথ অতিক্রম করতে বর্তমানে ফেরির ধরনভেদে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, আরিচায় ২টি, কাজিরহাটে ২টি, পাটুরিয়ায় ৫টি এবং দৌলতদিয়ায় ৩টি ফেরিঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘাটগুলোর সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পাটুরিয়া ঘাটে অপেক্ষমাণ গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চালক আবুল কাশেম বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর পর সাধারণ সময়ে ফেরির জন্য তেমন সিরিয়ালে দাঁড়াতে হয় না। তবে ঈদে ভিড় বাড়লে কিছুটা অপেক্ষা করতেই হয়।”

ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী মোশারফ হোসেন বলেন, “ফেরি সংকট না থাকলে এখন আগের মতো ভোগান্তি হয় না। পর্যাপ্ত ফেরি চলাচল করলে এবারও যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।”

আরিচা ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, “ঈদের সময় ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। বর্তমানে এ নৌরুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে। দুই পাড়ে মোট চারটি ফেরিঘাট সচল রয়েছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাম হোসেন বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে যাত্রীদের ভোগান্তির কোনো আশঙ্কা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “যানবাহন ওঠানামার জন্য পাটুরিয়ায় পাঁচটি ও দৌলতদিয়ায় তিনটি ঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বিপিএম জানান, ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও ঘাট এলাকায় জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনীও মোতায়েন থাকবে।

তিনি বলেন, “ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এরপর গাড়ি ফেরিতে ওঠার পর যাত্রীরা নিজ নিজ আসনে বসবেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।”

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, “ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, পরিবহন মালিক সমিতি, লঞ্চ ও স্পিডবোট মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। ঘাট এলাকায় নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।”

তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের আগে ও পরে মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে।”

সংশ্লিষ্টদের আশা, পর্যাপ্ত ফেরি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এবারের ঈদযাত্রা হবে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad