বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক ‘পুশ-ইন’ অভিযোগ, সীমান্ত হত্যা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই দুই বাহিনীর মধ্যে প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। সীমান্তে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে এবারের সম্মেলনকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং কথিত ‘পুশ-ইন’ ইস্যু। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে এ বিষয়ে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ বহু ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির দাবি, তাদের তৎপরতায় এসব ঘটনার বেশ কয়েকটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনায় বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। বিজিবির দাবি, এসব ব্যক্তির মধ্যে ভারতীয় নাগরিক এবং রোহিঙ্গাও থাকতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী বলেও মনে করে ঢাকা।
অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। এ বিষয়ে উভয় দেশের অবস্থানের পার্থক্যই এবারের বৈঠকে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধি দলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অপরদিকে বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দলে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে এবারের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ