হবিগঞ্জ মেডিকেলে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
এক শিক্ষার্থীর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত, ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক আরও ৫ জন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় আট শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক কার্যক্রম ও ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে তাফসির আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন ২০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

ওই দিনই ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

যেভাবে শাস্তি পেলেন ৮ শিক্ষার্থী

অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক আরও ৫ শিক্ষার্থী

একই অফিস আদেশে ডি এম এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad