বগুড়ার শেরপুর-নন্দীগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারের জন্য বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা। সংস্কারকাজের কারণে সড়ক বন্ধ রাখার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাইকিং করে ঘোষণা দিলেও এখনো পুরোপুরি সড়ক বন্ধ করা হয়নি। এর মধ্যে বর্ষার বৃষ্টিতে খোঁড়া সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি বাড়ছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন শেরপুর-নন্দীগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের দুবলাগাড়ী এলাকায় সংস্কারকাজ করছে ‘হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’। সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রাখা হয়েছে। তবে খোঁড়া অংশের পাশে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খোঁড়া অংশ কাদাপানিতে পরিণত হচ্ছে।
ধীরগতির সংস্কারে বাড়ছে দুর্ভোগস্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ চলছে ধীরগতিতে। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কারে ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক খুঁড়ে রাখায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
ব্যস্ত এই আঞ্চলিক সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী না থাকায় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথে চলাচল করেন। এ সড়ক ব্যবহার করে বগুড়া হয়ে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে রাজশাহী জেলায় যাতায়াত করা যায়।
৩০ শিল্পকারখানার ব্যবসায়েও প্রভাবজনবহুল এই সড়কের দুই পাশে চাল ও পশুখাদ্যের (ফিড) মিলসহ প্রায় ৩০টি ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন চাল, ধান ও ফিডবোঝাই প্রায় ৪০ থেকে ৬০টি ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য সরবরাহ করে।
কিন্তু সড়ক খুঁড়ে রাখা এবং বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় পণ্যবাহী এসব যান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এতে একদিকে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী বেলাল আহম্মেদ, সুলতান, আশাদুল ও আল-আমিন বলেন, তাদের মিল থেকে প্রতিদিন ধান ও চালের ট্রাক লোড-আনলোড করতে হয়। সড়ক খুঁড়ে রাখায় ব্যবসা একপ্রকার বন্ধের মুখে পড়েছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অতিরিক্ত ভাড়ায় পণ্য আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ট্রাকচালক আল আমিন, শিপন ও রুবেলসহ অনেকে বলেন, ব্যস্ত সড়কটি খুঁড়ে রাখায় স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। ফলে গাড়ির মালিকরা এ সড়কে ভাড়ায় গাড়ি পাঠাতে চাইছেন না।
বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও পথচারী সাব্বির, আয়নাল হক, আপেল মাহমুদ ও আশরাফুল বলেন, সড়কজুড়ে গর্ত ও কাদা তৈরি হওয়ায় গাড়ি নিয়ে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, পুরো সড়ক একসঙ্গে বন্ধ না করে অন্তত এক পাশ দিয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী রেখে সংস্কারকাজ করা উচিত ছিল। এতে একদিকে সংস্কারকাজ চলত, অন্যদিকে মানুষের দুর্ভোগও কিছুটা কমত।
তারা সংস্কারকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান তদন্তের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাসদায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল বলেন, মাইকিং করে সড়ক বন্ধ রেখে দ্রুত কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু সড়ক খোঁড়ার পর বৃষ্টি হওয়ায় মানুষের যাতায়াতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে সড়ক এখনো বন্ধ করা হয়নি। অতি জরুরি কাজগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোনো সড়ক দীর্ঘদিন খুঁড়ে রাখা যাবে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংস্কারকাজ চলাকালে মানুষের চলাচলের জন্য নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)