সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না হলে বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ দুপুর
  • ১০২৫৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬ বাতিল না করলে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি আইনটিকে শরিয়াহবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি জানান, আইন বাতিলের দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

ফয়জুল করীম বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান এবং ধর্মপ্রাণ। এমন দেশে সরকার ধর্ম ও ইসলামবিরোধী কোনো আইন সংসদে পাস করতে পারে—এটি কল্পনা করাও কঠিন। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের কাছ থেকে এমন উদ্যোগ প্রত্যাশিত নয়।

তিনি বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি সংশোধনী আনা হয়। ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ নামে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়েছে। তার অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে কোরআনে বর্ণিত ইসলামের একটি অকাট্য বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই নাগরিকদের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে—এমন কোনো আইন সরকার করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস না যেতেই শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে আইনটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ফয়জুল করীম বলেন, আইনমন্ত্রীকে কথাবার্তায় আরও মার্জিত হতে হবে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে তিনি যেভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তা শোভনীয় নয়। ব্রিটিশ ও পশ্চিমা আইনে আইনমন্ত্রী দক্ষ হতে পারেন; তবে শরিয়াহ আইন ও এর প্রয়োগ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বেশি। তাই শরিয়াহ-সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশে নানা ধরনের সংকট রয়েছে। মানুষ প্রতিদিনের সমস্যায় জর্জরিত। বেকারত্ব বাড়ছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সন্ত্রাসে মানুষ আতঙ্কিত এবং বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। এসব বাস্তব সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সরকার শরিয়াহবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে তা জাতির জন্য হতাশাজনক।

ফয়জুল করীম বলেন, তারা সরকারের সদিচ্ছার প্রতি আস্থা রাখতে চান। সম্ভবত গভীরভাবে পর্যালোচনা না করেই আইনটি আনা হয়েছে। তাই সরকারকে আইনটি নিয়ে আরও পর্যালোচনা এবং উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার সুযোগ থাকলেও সমস্যা সমাধানের নামে কোনোভাবেই শরিয়াহ অমান্য করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad