এর আগে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ছবির ক্যাপশনে মাহিরা জানিয়েছিলেন, এবারের গর্ভাবস্থা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল না। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করি...আর তারপর আসে আল্লাহর পরিকল্পনা।’
২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মামাহিরা খান প্রথমবার মা হন ২০১০ সালে, মাত্র ২৪ বছর বয়সে। তাঁর প্রথম সন্তান ছেলে আজলান। সন্তানের বাবা মাহিরার প্রথম স্বামী আলি আসকারি।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় ব্যবসায়ী আলি আসকারির সঙ্গে মাহিরার পরিচয় হয়। ২০০৭ সালে ২১ বছর বয়সে তাঁকে বিয়ে করেন মাহিরা। তিন বছর পর তাঁদের সংসারে আসে আজলান। ২০১৫ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
বিচ্ছেদের পর ছেলে আজলানকে বড় করে তোলার অভিজ্ঞতা মাহিরার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। পরে পাকিস্তানি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সেলিম করিমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালে তাঁদের সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সেলিমকে বিয়ে করেন মাহিরা। বর্তমানে আজলানের বয়স ১৭ বছর।
দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় তিন বছর পর আবারও মা হতে চলেছেন এই অভিনেত্রী।
‘গর্ভাবস্থা পরিকল্পনায় ছিল না’টিআইএফএফে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহিরা জানান, এবারের গর্ভাবস্থা পরিকল্পিত ছিল না। ২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা হওয়ার অভিজ্ঞতার তুলনায় ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের অভিজ্ঞতা অনেকটাই ভিন্ন বলেও জানান তিনি।
বয়সের কারণে এবারের গর্ভাবস্থা শারীরিকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেন মাহিরা। একই সঙ্গে বড় হয়ে যাওয়া সন্তানের মা হিসেবে আবার নবজাতকের মা হওয়ার জন্য তাঁকে মানসিকভাবেও নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না মাহিরা। তাই গর্ভধারণের খবর প্রকাশ্যে আনতেও তিনি কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত জীবনের নতুন এই অধ্যায় গোপন না রেখে উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
টিআইএফএফে মাহিরার প্রথম উপস্থিতি২০২৬ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্মাতা বাসাম তারিকের আমন্ত্রণে অংশ নেন মাহিরা। পরিচালকের ‘ইয়োর মাদার, ইয়োর মাদার, ইয়োর মাদার’ সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে হাজির হন তিনি। সিনেমাটিতে অস্কারজয়ী অভিনেতা মাহেরশালা আলীও অভিনয় করেছেন।
টিআইএফএফে এটিই মাহিরার প্রথম উপস্থিতি। উৎসবের লালগালিচায় তাঁকে দেখা যায় পাকিস্তানি ঐতিহ্যবাহী জমকালো শাড়িতে। ছিল মিনিমাল মেকআপ। কানে লম্বা ঝুমকা ছাড়া বিশেষ কোনো অলংকার পরেননি তিনি।
সিনেমাটির প্রিমিয়ারের পাশাপাশি উৎসবের কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট প্রোগ্রামেও অংশ নেন মাহিরা। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সেখানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানি সিনেমা ও দক্ষিণ এশিয়ার গল্প তুলে ধরার সুযোগও কাজে লাগান তিনি।
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় প্রথমবার হাঁটার অভিজ্ঞতা তাই মাহিরার জন্য হয়ে উঠেছে দ্বিগুণ আনন্দের—একদিকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ, অন্যদিকে জীবনের নতুন অতিথির আগমনের সুখবর।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক