পথের বাধায় দেরি, আগুনে পুড়ল শেখেরহাটের ছয় দোকান

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ দুপুর
  • ৪২০৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
মহাসড়কে পকেট গেট নেই, বাসস্টেশন ও ওজন স্কেলের যানজটে আটকে ফায়ার সার্ভিস

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শেখেরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে দ্রুত রওনা হলেও পথের নানা প্রতিবন্ধকতায় সময়মতো আগুনের কাছে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার স্টেশন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সরাসরি ওঠার পকেট গেট না থাকায় গাড়িটিকে ঘুরপথে যেতে হয়। এরপর সীতাকুণ্ড বাসস্টেশনের যানজট এবং বড় দারোগাহাট ওজন স্কেলের পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারিতে আটকে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

এরই মধ্যে স্থানীয়দের প্রাণপণ চেষ্টার পরও বাজারের এক সারির ছয়টি দোকান, একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি অটোরিকশা পুড়ে যায়।

সোমবার রাত ১১টার দিকে শেখেরহাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের অপেক্ষায় না থেকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা নিজেরাই আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেউ বালতি দিয়ে পানি ঢালেন, আবার কেউ দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেন। তাদের প্রচেষ্টায় আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো গেলেও এক সারির ছয়টি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

ঘুরপথে যেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ফলামন মুন্নু মারমা জানান, ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু ফায়ার স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে সরাসরি ওঠার কোনো পকেট গেট নেই। ফলে গাড়িটি উল্টো পথে মহাসড়কে উঠে উপজেলা সদর পর্যন্ত যায়। সেখানে ইউটার্ন নিয়ে আবার ঢাকামুখী লেনে প্রবেশ করতে হয়।

এরপর সীতাকুণ্ড বাসস্টেশন এলাকায় যানজটে আটকে পড়ে গাড়িটি। পরে বড়দারোগাহাট ওজন স্কেলে পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারির কারণেও বাধার মুখে পড়ে। স্বাভাবিক গতিতে চলতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সরু গ্রামীণ সড়ক দিয়ে কয়েকটি মোড় ঘুরে শেখেরহাট বাজারে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস।

ফলামন মুন্নু মারমা বলেন, “আমরা ইচ্ছে করে দেরি করিনি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু পথের সমস্যার কারণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।”

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পণ্য, ব্যবসার পুঁজি ও আয়ের অবলম্বন নষ্ট হয়েছে। এক রাতের আগুনে তাদের নতুন করে ব্যবসা দাঁড় করানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শেখেরহাটের এ অগ্নিকাণ্ডে জরুরি সেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাও সামনে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফায়ার স্টেশন থেকে মহাসড়কে সরাসরি প্রবেশের ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি গাড়িকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বাসস্টেশন ও ওজন স্কেলের যানজট যুক্ত হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পকেট গেটের দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, ফায়ার স্টেশনের সামনে মহাসড়কে দ্রুত কার্যকর পকেট গেট নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি বড় দারোগাহাট ওজন স্কেল এলাকায় জরুরি সেবার গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের মতে, দুর্যোগের মুহূর্তে শুধু ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থাকলেই হবে না; আগুনের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগও নিশ্চিত করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ফলামন মুন্নু মারমার বক্তব্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad