হাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ দুপুর
  • ২৬৭৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
হাড়ের কোষ থেকে উদ্ভূত ক্যানসারকে সাধারণভাবে হাড়ের ক্যানসার বলা হয়। এ ধরনের ক্যানসারকে একত্রে ‘বোন সারকোমা’ বলা হয়। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা কিছুটা বেশি। সাধারণত ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হাড়ের ক্যানসার বেশি দেখা যায়। তবে ক্যানসারের ধরনভেদে বয়সের পার্থক্য রয়েছে। মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের মধ্যে কন্ড্রোসারকোমা বেশি দেখা যায়।

হাড়ের ক্যানসারের বিভিন্ন ধরনের মধ্যে অস্টিওসারকোমা, ইউইং সারকোমা ও কন্ড্রোসারকোমা উল্লেখযোগ্য। সাধারণত হাত-পায়ের লম্বা হাড়ে এ রোগ দেখা দিলেও কিছু ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের হাড়েও হতে পারে।

যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে

জেনেটিক কারণ: ফ্যামিলিয়াল রেটিনোব্লাস্টোমার মতো কিছু বংশগত রোগ থাকলে অস্টিওসারকোমার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ৪০০ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

রেডিয়েশন থেরাপি: শরীরের কোনো অংশে, বিশেষ করে হাত বা পায়ে, রেডিওথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে সেখানে অস্টিওসারকোমা হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। সাধারণত রেডিওথেরাপির কয়েক বছর পর এ ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

আঘাত বা ট্রমা: হাড়ে আঘাত পাওয়া বা হাড় ভেঙে যাওয়া সরাসরি সারকোমার কারণ নয়। তবে অনেক সময় হাড় ভাঙার পর অস্ত্রোপচারের সময় পরীক্ষা করতে গিয়ে আগে থেকে থাকা হাড়ের ক্যানসার শনাক্ত হয়।

অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট: কিছু ক্ষেত্রে ধাতব প্রস্থেটিক ডিভাইস স্থাপনের জায়গায় সারকোমা দেখা দিতে পারে।

কীভাবে শনাক্ত করা হয়

হাড়ের ক্যানসার নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে বায়োপসি গুরুত্বপূর্ণ। কেটে অথবা নিডলের মাধ্যমে বায়োপসি করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি পরীক্ষাও করা হতে পারে।

রোগ নির্ণয়ে আরও যেসব পরীক্ষা করা হয়—

এক্স-রে

সিটি স্ক্যান

এমআরআই

বোন স্ক্যান

পেটের সিটি স্ক্যান

ইউইং সারকোমার ক্ষেত্রে জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, ওজন কমে যাওয়াসহ কিছু সাধারণ উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা

রোগের ধরন, অবস্থান ও পর্যায় অনুযায়ী হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা হতে পারে।

করণীয়

যাদের মধ্যে হাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে বা অন্যান্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। আক্রান্ত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। নিয়মিত ও যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ডা. মো. তৌছিফুর রহমান, টিউমার ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, বগুড়া; আমার দেশ, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad