এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেয়। হাসপাতালের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, মাথায় তীব্র আঘাতের কারণে রাফিদের মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে এবং উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
পরে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং দেওয়া হয়।
রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিনোদপুর বাজারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল আকস্মিকভাবে ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় সেটিকে সাইড দিতে গিয়ে রাফিদ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে তার মাথা সরাসরি সড়কের ডিভাইডারে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাময়িকভাবে তাকে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাফিদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তার মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে এবং তার কোমা স্কিলের অবস্থাও গুরুতর। রাজশাহীতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
রাফিদের চিকিৎসার বিষয়ে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী রাফিদ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর থেকেই আমরা তার চিকিৎসার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আজ সকালে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। রাজশাহীতে উন্নত চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাফিদ আমাদের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী; এই সংকটময় সময়ে রুয়েট প্রশাসন তার পরিবারের পাশে রয়েছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে, সবার কাছে তার জন্য দোয়া প্রার্থী।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত রুয়েটের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হিমেল ইসলাম বলেন, বিনোদপুর বাজারে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আমরা সেখানে যাই এবং এ দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পারি। পরে আমরা ভাইকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। বর্তমানে তার অবস্থা অবনতির দিকে রয়েছে।
এদিকে রাফিদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্রাউডফান্ডিং বা তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি সংগৃহীত হয়েছে। তবে তার পরবর্তী চিকিৎসায় আরও ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে। রাফিদকে বাঁচাতে এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স