খালিয়াজুড়ী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ীতে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক। উৎপাদন খরচও পাচ্ছেন না তারা। এতে চলতি মৌসুমে বোরো চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন খরচ না ওঠায় ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক। এতে আগামীতে হাওরাঞ্চলে ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে
জানা গেছে, সার, কীটনাশক, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় ধানের উৎপাদন খরচ এখন অনেক বেশি পড়ছে। এক মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ পড়ছে এক হাজার টাকারও বেশি। অথচ বাজারে লোকসান দিয়ে প্রতিমণ ধান ৯০০ টাকা কিংবা তারও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষককে। এতে উৎপাদন খরচও ওঠাতে পারছেন না কৃষক। সব মিলিয়ে হাওরের কৃষকের কাছে বোরো চাষ এখন যেন লাভের ফসল নয়, বরং লোকসানের ফাঁদ। বোরো চাষ করে উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না কৃষক। শুধু ধানের বাজারেই নয়, এর প্রভাব পড়েছে হাওরের জমির পত্তন বাজারেও। এক মৌসুমের জন্য জমি পত্তনের দাম গত বছরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এতে একদিকে চাষিরা যেমন চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন, অন্যদিকে জমির মালিকেরাও পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার মানুষের বড় একটি অংশের জীবিকা বোরো ধানকেন্দ্রিক। বছরে মাত্র একটি ফসল হওয়ায় বোরো ধানের ফলন ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করে পুরো বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব।
বোরো মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছিল। এর অধিকাংশ জমিতেই কৃষকেরা এক মৌসুমের জন্য জমির মালিকদের কাছ থেকে পত্তন নিয়ে চাষাবাদ করেন। গত কয়েক মৌসুমে প্রতি একর জমির পত্তন মূল্য গড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা থাকলেও এবার সেই বাজারেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ধস। খালিয়াজুরী গ্রামের জমির মালিক নজরুল ইসলাম জানান, আগামী বোরো মৌসুমের জন্য তার ১২ একর জমি লিটন মিয়ার কাছে মাত্র ৬৩ হাজার টাকায় পত্তন দিয়েছেন। অথচ গত বছর একই ১২ একর জমি তিনি দুই লাখ টাকায় পত্তন দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ১২ একর জমির পত্তনমূল্য কমেছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। গত বছরের তুলনায় এবার পত্তনমূল্য প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ধানের মান ধরে রাখতে না পারায় হয়তো দামে প্রভাব পড়েছে। তিনি আরো বলেন, সিন্ডিকেটজনিত কোনো কারণ এ উপজেলায় ঘটে থাকলে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর বরেন্দ্র ভূমির পত্নীতলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম হওয়ায় কৃষকেরা অভিযোগ করেন, আড়তদার ও মিল মালিকেরা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়েছেন। এদিকে আড়তদাররা বলছেন, কাঁচা ধানে মিল মালিকদের চাহিদা না থাকায় দাম তুলনামূলক কমেছে।
কৃষকদের দাবি, শুরুতে খরার কারণে এবার আউশ আবাদে বেশি সেচ দিতে হয়েছে। এছাড়া সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় অন্তত দুই-আড়াই হাজার টাকা বেশি হয়েছে। সবচেয়ে বিপদে আছেন বর্গাচাষিরা। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় চিন্তিত তারা।
এবার আউশ আবাদে খরচ বেশি হয়েছে। বাজারে ধানের দামও কম। উৎপাদন খরচ উঠছে না। এমন তথ্য জানান উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নের উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের চাষি তরিকুল ইসলাম শাওন। কৃষকদের হিসাবে এবার আউশ চাষে বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে প্রকারভেদে ৭৬০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে প্রকারভেদে ধান পাওয়া যাচ্ছে ১৪ থেকে ১৮ মণ। এতে তারা লাভের মুখ তেমন দেখছেন না। অথচ গত বছরও এক মণ ধান বিক্রি হয়েছে ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকায়।
পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন আমার দেশকে বলেন, কৃষক মাড়াই শেষে কাঁচা ধান সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নিয়ে আসায় দাম কম পাচ্ছেন। এই সময়ে ধান বিক্রি না করে শুকিয়ে ঘরে সংরক্ষণ করে কিছুদিন পর বিক্রি করলে দাম বেশি পেতে পারেন।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স