সৎ মেয়েকে ধর্ষণ: কামরাঙ্গীরচরে সৎ বাবার মৃত্যুদণ্ড

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ দুপুর
  • ৬১৭৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে সৎ মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে জামাল নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

সাক্ষ্য ও ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগ প্রমাণ

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল মজিদ জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলসহ মামলার পারিপার্শ্বিক ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর (সংশোধনী ২০০৩) ৯(১) ধারায় তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সঠিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, রায়ের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামিকে দেওয়া ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভুক্তভোগী পাবেন। আসামি জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে জেলা প্রশাসককে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর জামাল তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ঘরে একা পেয়ে সৎ মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরে তার শরীরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে বিষয়টি তার মা জানতে পারেন।

এরপর ২০২৪ সালে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তদন্তের সময় ভুক্তভোগীর ২২ ধারার জবানবন্দি, চিকিৎসকের মেডিকেল প্রতিবেদন ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর গর্ভের সন্তানের জৈবিক পিতা আসামি জামাল বলে প্রমাণিত হয়। এসব সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad