দুদকের পুরনো অনুসন্ধান পুনরায় চালুর দাবি, ঔষধ প্রশাসনের পরিচালককে আইনি নোটিশ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ দুপুর
  • ৩৫৬৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন এ নোটিশ দিয়েছেন।

নোটিশে ড. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে আগে শুরু হওয়া দুদকের অনুসন্ধান পুনরায় চালু করে অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধ কারখানা পরিদর্শন, অনুমোদন ও নবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।

আগের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন

আইনি নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওই অনুসন্ধান পরবর্তী সময়ে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার দাবি, আগের অনুসন্ধান কার্যকরভাবে এগোয়নি। এ কারণে পুরনো অনুসন্ধান পুনরায় চালু করে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

কারখানা অনুমোদন ও নবায়নে অনিয়মের অভিযোগ

নোটিশে ওষুধ কারখানা পরিদর্শন, অনুমোদন ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন না করেই ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন কিংবা পুরনো কারখানার নবায়নের ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসব প্রক্রিয়ায় উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।

জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুনের মতে, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে এ প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

নোটিশে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এর প্রভাব প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে। তাই অভিযোগগুলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ওষুধ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উদ্যোক্তা ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঔষধ প্রশাসনের মতো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ড. মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে যায়যায়দিনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের পক্ষ থেকেও কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে আইনি নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো কোনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad