সদরপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫২ ঘরের ৩৭টিই পরিত্যক্ত

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ দুপুর
  • ৮৯০২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ঢেউখালী নতুন বাজারসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫২টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে পরিবার বসবাস করছে। বাকি ৩৭টি ঘর অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, জলাবদ্ধতা ও চলাচলের রাস্তার বেহাল দশায় প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত প্রকল্পটিতে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ঘর ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে যায়। কোনো কোনো ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে। বাথরুম ও ঘরের সামনেও দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে। এতে প্রকল্পের বাসিন্দাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

বৃষ্টির পানি জমে থাকে সাত দিন

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব ঘরের চারপাশ লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। পুরো এলাকাটি অনেকটা জঙ্গলের মতো হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে দিন-রাত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে বসবাসরত পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার বলেন, বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে সাত দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ঘরে পানি ঢোকে, বারান্দা ও বাথরুমেও পানি জমে যায়। বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে বাথরুম করতে হয়। প্রতিদিন পানি সেচতে সেচতে তাঁর হাতে ঘা হয়ে গেছে।

মিনু আক্তার বলেন, ‘আমাদের তো আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে এখানে থাকছি।’

আরেক বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী জিয়াসমিন আক্তার বলেন, একদিন বৃষ্টি হলে ঘরের সামনে প্রায় সাত দিন পানি জমে থাকে। কয়েক দিন আগে তাঁর আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে যায়। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা জমে থাকে। পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও রয়েছে।

জিয়াসমিনের অভিযোগ, প্রকল্পের দুরবস্থার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা অন্যত্র চলে গেছেন। তবে তাঁর মতো অসহায় পরিবারগুলোর যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসায় তাঁরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

‘সেখানে বসবাসের পরিবেশ নেই’

ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, তিনি প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্দশা দেখেছেন। সেখানে সত্যিই বসবাসের পরিবেশ নেই। বিষয়টি এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি নির্মাণের আগে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন মাটি ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে প্রকল্পের চারপাশে পাকা ড্রেন নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি ও সম্ভাব্য সমাধানের কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad