২৫ বছরে ২০ বার ভিটেমাটি হারিয়েছে আড়াই হাজার পরিবার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ দুপুর
  • ১৮৯৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার অব্যাহত ভাঙনে গত ২৫ বছরে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার অন্তত ২০ বার ভিটেমাটি হারিয়েছে। বসতভিটা, কৃষিজমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এসব পরিবারের অনেকেই এখন নিঃস্ব। জীবিকার তাগিদে অনেকে শহরে গিয়ে শ্রমিক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। তবে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় বাপ-দাদার ভিটায় থাকা পরিবারগুলোকেও প্রতিবছর নতুন করে ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে।

বর্ষা এলেই তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীব্র ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দুই উপজেলার নদীতীরবর্তী জনপদে। প্রতি বছর শত শত বিঘা কৃষিজমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনকবলিত মানুষের পুনর্বাসন ও নদীশাসনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

১০ বছরে বিলীন ৬০ শতাংশ এলাকা

তিন নদীবেষ্টিত সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছে। সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত হলদিয়া, জুমারবাড়ী ও সাঘাটা ইউনিয়নের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা গত ১০ বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে অন্তত ১০টি মসজিদ, পাঁচটি মাদরাসা ও নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তত ১৭ বার অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে যমুনার গতিপথ পরিবর্তন ও তীব্র ভাঙনে সাঘাটা উপজেলার প্রায় ২০ দশমিক ৮৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

১০১ কোটি টাকার প্রকল্পেও ধীরগতি

নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিগত সরকারের সময়ে প্রায় ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প নেওয়া হয়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কাজ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাঘাটা উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায় প্রকল্পের কাজ তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি। ফলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণে চারটি প্যাকেজে কাজ নেওয়া হয়।

এর মধ্যে প্যাকেজ-১-এর আওতায় ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩১১ দশমিক ৫১ মিটার, প্যাকেজ-২-এ ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩২৭ মিটার, প্যাকেজ-৩-এ ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৭ মিটার এবং প্যাকেজ-৪-এ ২৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণের কাজ নেওয়া হয়।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের জিও ব্যাগ, দুর্বল সিসি ব্লক, পুরোনো ও ছেঁড়া জিও ম্যাট, খোয়ার পরিবর্তে মাটি মিশ্রিত রাবিশ এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন ঠেকাতে নেওয়া প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, প্রকল্পের কাজ ব্যর্থ হলে মুন্সিরহাট বাজারের পাশাপাশি মুন্সিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শত শত বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হতে পারে।

ভাঙনের মধ্যেও চলছে শিক্ষা কার্যক্রম

ভাঙনের কবলে পড়া বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান চালু রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিশ শাফী। তিনি বলেন, কষ্ট হলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মুন্সিরহাট এলাকার কাজ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে কাজের গতি ঠিক আছে। নিম্নমানের কাজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad