গ্রিনিচ মান সময় সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে আসে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়ায়।
বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহরয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি গত ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। ফলে তেলের দামে এর প্রভাব পড়েছে।
বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ে প্রত্যাশাও বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জি-৭ দেশগুলোর জরুরি মজুত থেকে তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত।
জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়ার সিদ্ধান্তজ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় জি-৭ দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত—এই দুটি বিষয় আপাতত তেলের দাম কমিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা এখনো রয়েছে। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তাই আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক