আবাসন সংকট সমাধানে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান আইপিডির

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২২ রাত
  • ৫১৫৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে আবাসন খাতকে শুধু বাজার ও বেসরকারি উদ্যোগের ওপর ছেড়ে না দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।

বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা, জমি, অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। বিবৃতিতে সারাদেশের নগর এলাকায় সার্বজনীন আবাসন ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে আট দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন সংরক্ষণের দাবি

আইপিডির সুপারিশে বলা হয়েছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সরকারি-বেসরকারি সব আবাসন প্রকল্পে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জমি অথবা নির্মিত ফ্ল্যাট ও ডুয়েলিং ইউনিট নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

এ ছাড়া বস্তি ও নিম্ন আয়ের এলাকার জীবনমান উন্নয়ন এবং পাবলিক-প্রাইভেট-কমিউনিটি পার্টনারশিপের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাজারভিত্তিক ও টেকসই আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ঢাকামুখী অতিরিক্ত জনস্রোত কমাতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে সুষম ও টেকসই স্থানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা আইনের আওতায় সমন্বিত আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।

কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের প্রস্তাব

জাতীয় আবাসন নীতি অনুসরণ করে ‘জাতীয় সাশ্রয়ী আবাসন তহবিল’ গঠনেরও সুপারিশ করেছে আইপিডি। এ তহবিলের মাধ্যমে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল ও দেশের প্রধান শহরগুলোর অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়াভিত্তিক সামাজিক আবাসন নির্মাণের সুপারিশও রয়েছে।

এ ছাড়া সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ করে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং আবাসনসংক্রান্ত পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জলাভূমি ও কৃষিজমি রক্ষার তাগিদ

টেকসই আবাসন গড়ে তুলতে জলাভূমি ও কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব ব্লক-ইটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে আইপিডি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নীতি দিয়ে দেশের আবাসন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। জাতীয় আবাসন নীতি ২০১৬-এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহর থেকে শুরু করে প্রান্তিক পৌরসভা পর্যন্ত সুষম অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা ও সাশ্রয়ী আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিডি মনে করে, বৈষম্যহীন ও টেকসই নগর বাংলাদেশ গড়তে আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে নিয়ে আসা প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের নগর এলাকায় আবাসন সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad