ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাই শিক্ষাঙ্গনে ঐক্যের ভিত্তি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১ দুপুর
  • ৪৭৫০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
সংকট ও আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নানা কারণে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য, দূরত্ব ও বিভাজন তৈরি হয়। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, সাংগঠনিক اختلاف এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব এ দূরত্ব বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে ভিন্নমতকে সম্মান করা, পরস্পরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনার চর্চা শিক্ষাঙ্গনে ঐক্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে আমার দেশ পাঠকমেলার গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের এক চা-চক্রে। সেখানে শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ক, মতপার্থক্য এবং ঐক্য ধরে রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা।

অভিন্ন লক্ষ্য শেষে কেন বাড়ে দূরত্ব

আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার নজির রয়েছে। অধিকার আদায় কিংবা সংকট মোকাবিলার সময় অভিন্ন লক্ষ্য ব্যক্তিগত ও আদর্শগত পার্থক্যকে অনেক ক্ষেত্রে আড়ালে রাখে। কিন্তু সংকট কেটে গেলে ব্যক্তিগত মত, নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা ও সাংগঠনিক পার্থক্য সামনে আসতে শুরু করে।

কে নেতৃত্ব দেবেন, কার মতামত গুরুত্ব পাবে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেও মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতি ও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার কারণে ছোটখাটো বিরোধও একসময় বড় বিভাজনে রূপ নিতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

ঐক্য মানে অভিন্ন মত নয়

চা-চক্রে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি। ঐক্য প্রতিষ্ঠার অর্থ সবাইকে একই মতের অনুসারী করা নয়; বরং মতপার্থক্যকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে যুক্তির মাধ্যমে আলোচনা করা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখাই প্রকৃত ঐক্যের ভিত্তি।

তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও মতবিনিময়ের পরিসর সংকুচিত হলে বিভাজন বাড়তে পারে। অন্যদিকে, একে অপরের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ভিন্ন চিন্তাকে বোঝার চেষ্টা করলে অনেক বিরোধ বড় আকার ধারণের আগেই সমাধান করা সম্ভব।

পাঠচর্চা বাড়াতে পারে পারস্পরিক বোঝাপড়া

আলোচনায় পাঠচক্র ও মুক্ত আলোচনার গুরুত্বও উঠে আসে। সদস্যদের মতে, বই পড়া, লেখালেখি এবং চিন্তার আদান-প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ে এবং সহনশীলতার চর্চা জোরদার হয়।

আমার দেশ পাঠকমেলার এই চা-চক্রে শিক্ষাঙ্গনে সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি হয়। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ঐক্য বজায় রাখা যায়। আর সেই চর্চার সূচনা হতে পারে একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মধ্য দিয়ে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad