২০২৩ সালে ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে শর্মিলা ঠাকুর নিজেই তাঁর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি তাঁর দুই মেয়ে সোহা আলি খান ও সাবা আলি খান মায়ের অসুস্থতা ও রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরায় বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।
ধূমপান ছাড়াও যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়েসাধারণভাবে ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক থাকলেও অধূমপায়ীরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসারবিষয়ক গবেষণা সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) বায়ুদূষণ ও বায়ুবাহিত সূক্ষ্ম কণাকে ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ধূমপান ছাড়াও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে কয়েকটি বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে—
বায়ুদূষণ: দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়া।
পরোক্ষ ধূমপান: অন্যের সিগারেটের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকা।
ঘরের ভেতরের দূষণ: অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং কাঠ, কয়লা বা অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর ধোঁয়া।
রেডন গ্যাস: বদ্ধ ঘরে জমে থাকা তেজস্ক্রিয় গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ।
অ্যাসবেস্টস: নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে এ ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে আসা।
পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ইতিহাস থাকা।
তবে এসব ঝুঁকির কোনো একটি থাকলেই যে কারও ক্যানসার হবে, এমন নয়। ব্যক্তির বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ ও অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে রোগের ঝুঁকি নির্ধারিত হয়।
অধূমপায়ীদের ক্যানসারের ধরন কেমন হতে পারেঅধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন হলো অ্যাডেনোকার্সিনোমা। এটি নন-স্মল-সেল লাং ক্যানসারের অন্তর্ভুক্ত এবং অধূমপায়ীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
এ ধরনের কিছু টিউমারে নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন থাকতে পারে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে এসব পরিবর্তন শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসকেরা রোগীর জন্য উপযুক্ত টার্গেটেড থেরাপি বেছে নিতে পারেন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন পাওয়া যায় না কিংবা একই চিকিৎসা কার্যকর হয় না।
তাই রোগী ধূমপান করতেন কি না, শুধু সেই তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয় না। ক্যানসারের ধরন, পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য ও রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়।
ফুসফুসের ক্যানসারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ সর্দি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের অন্য সমস্যার মতো মনে হতে পারে। ফলে অনেকে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
১. দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকা বা পুরোনো কাশির ধরন বদলে যাওয়া।
২. অকারণে ওজন কমে যাওয়া।
৩. শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা ও অস্বস্তি দেখা দেওয়া।
৪. কাশির সঙ্গে রক্ত আসা।
এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা বারবার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়; তবে কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।
সচেতনতাই গুরুত্বপূর্ণশর্মিলা ঠাকুরের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, ধূমপান না করলেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকা, বায়ুদূষণ কমানোর উদ্যোগ, কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এ রোগের ঝুঁকি কমানো ও সময়মতো শনাক্তকরণে সহায়ক হতে পারে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৬ অক্টোবর ২০২৬; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণাবিষয়ক সংস্থা (IARC) ও ফুসফুসের ক্যানসারবিষয়ক চিকিৎসা-তথ্য।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক