বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পাঠদান তদারকিও ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ একসঙ্গে সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, আলীকদমে মোট ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টিতে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ, সভায় অংশগ্রহণ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়, পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বও প্রধান শিক্ষককে পালন করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে যেতে হলে তাঁদের নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হয়। তখন অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এতে পাঠদানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আট শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব, পূর্ণাঙ্গ পদায়ন হয়নিসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে আটজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব এখনো অর্পণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ৩৮টি বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একই সঙ্গে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। অফিসের কাজে বাইরে যেতে হলে তাঁদের ক্লাস বাদ পড়ে। তখন অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় অভিভাবক মো. সিরাজ বলেন, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক শিক্ষার মান আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রধান শিক্ষকবিহীন একাধিক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকেরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, দাপ্তরিক কাজ ও সভায় অংশ নিতে গিয়ে অনেকটা সময় চলে যায়। ফলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান যথাযথভাবে তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষাএ বিষয়ে আলীকদম উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, উপজেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষে এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়; এ জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সংকট নিরসনে শূন্য পদগুলোতে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক