উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গাচড়ায় বর্তমানে চার ধরনের রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে ৮৩৬ দশমিক ২০ টন। এত সার মজুত থাকার পরও কৃষকদের চাহিদামতো সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে বিতরণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সারের অভাবে আটকে চাষাবাদ
উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার ও আশপাশের এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারের অভাবে তাঁদের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে আগাম আলু, বাদাম, ভুট্টা ও সবজি চাষের প্রস্তুতি নিয়েও অনেকে জমিতে বীজ রোপণ করতে পারছেন না। এতে উৎপাদন পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগাম বাজারে বেশি দামে ফসল বিক্রির সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে।
মিনার বাজার এলাকার কৃষক মোশারফ হোসেন ৫৪ শতক জমিতে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সার না পাওয়ায় এখনো আলু রোপণ করতে পারেননি তিনি।
মোশারফ হোসেন বলেন, সময়মতো সার পেলে এত দিনে আলুগাছ দুই থেকে তিন ইঞ্চি বড় হয়ে যেত। নির্ধারিত সময়ে আলু তুলে আগাম বাজারে বিক্রি করে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ থাকত। কিন্তু সারের অভাবে এখনো আলু লাগাতে পারেননি।
একই এলাকার কৃষক মহুবার রহমান ৯৫ শতক জমিতে বাদাম চাষ করতে চান। কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েও সার পাননি বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সারের অভাবে এখনো বাদাম রোপণ করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত সরবরাহ বাড়িয়ে কৃষকদের সময়মতো চাষাবাদের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ভুট্টাচাষি ছবুর আলী বলেন, ভুট্টা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করলেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। ডিলারের কাছে গিয়েও সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডিলারদের দাবি, সংকট নেই
নোহালী ইউনিয়নের সার ডিলার লেবু মিয়া দাবি করেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই; পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে কোনো ফসল আবাদের মৌসুম না হওয়ায় সার মজুত রাখা হচ্ছে। মৌসুম শুরু হলে কৃষকদের সার দেওয়া হবে। আগেভাগে সার সরবরাহ করলে কেউ কেউ তা মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। উপজেলার অন্য সার ব্যবসায়ী ও ডিলাররাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে কৃষি অফিসের দেওয়া মজুতের তথ্যের সঙ্গে কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগের কারণে সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তদারকি বাড়ানোর দাবি
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, উপজেলায় সার মজুত থাকার পরও কৃষক কেন প্রয়োজনের সময় তা পাচ্ছেন না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। ডিলারদের গুদামে সার থাকলে তা যথাযথভাবে কৃষকদের কাছে সরবরাহ করতে হবে। সার নিয়ে অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, উপজেলায় বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কৃষক যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট ডিলারদের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য এবং কৃষক, সার ডিলার, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক