বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ দুপুর
  • ২৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে ওঠে, যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

শুক্রবারের হিসাবে এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। প্রায় দুই মাসের মধ্যে এক সপ্তাহে এটি সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে জ্বালানির ব্যয়

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে। দেশটির মোটরচালক সংগঠন এএএর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম বেড়ে ৪ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত মে মাসে দাম উঠেছিল ৪ দশমিক ৫৫ ডলারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি।

এদিকে শুক্রবার ডিজেলের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৩১ ডলারে পৌঁছেছে। গত সেপ্টেম্বরে এ জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫১ ডলারে উঠেছিল। ফলে ডিজেলের বর্তমান দামও আগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান কত দিন চলতে পারে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। শিগগিরই সংঘাতের অবসান হবে—এমন সম্ভাবনা কম ধরে নিয়ে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবারের ফিউচারস চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসজুড়েও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে হামলা, সরবরাহে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তেলের সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এ পথে জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ গভীর হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এতে দুজন নিহত হন। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে কিছু কূটনৈতিক কর্মী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ডয়চে ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাতের কারণে অঞ্চলটি থেকে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেপ্টেম্বরে পরিবহন কিছুটা বাড়লেও চলতি মাসে তা আবার হ্রাস পেয়েছে।

চাপের মুখে শেয়ারবাজার

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও। শুক্রবার দেশটির প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের দিনও প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকটির পতন হয়েছিল।

আগামী কয়েক মাসে সংঘাত ও জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, তেলের দাম আগের ধারণার তুলনায় দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

এদিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এমন প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad