আওয়ামী লীগ ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ দুপুর
  • ২৫৩৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
গোপন সমঝোতার অভিযোগ দুই পক্ষেরই, প্রমাণ প্রকাশ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার তাগিদ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতা ও সখ্যের অভিযোগ ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য জোরালো হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে অকাট্য প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, দোষারোপের রাজনীতি অব্যাহত থাকলে এর সুবিধা পেতে পারে পতিত আওয়ামী লীগ।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে একসময় পাশাপাশি থাকা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলছে। সরকারি দলের দাবি, বিরোধী দলের ইন্ধনে শ্রমিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতের অভিযোগ, বিরোধী মতকে চাপে রাখতে ক্ষমতাসীন বিএনপি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে।

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাই সনদ, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরবর্তী সময়ে বিরোধী দল বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারের সমালোচনা জোরদার করে। লংমার্চ, বিভাগীয় সমাবেশসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলনও চলছে। সরকারি দলের অভিযোগ, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এসব আন্দোলনে বিরোধী দলের ইন্ধন রয়েছে এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, পলাতক স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের ভেতরে কিছু রাজনৈতিক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে গত বুধবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিও আলোচনার মাধ্যমে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও একটি গুপ্ত দল অপপ্রচারে লিপ্ত। তাঁর দাবি, পরাজিত শক্তি ও ওই দলের বক্তব্য এবং আচরণে মিল রয়েছে; তারা অতীতের মতো এখনো বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নির্বাচনের আগেও উঠেছিল সম্পর্কের অভিযোগ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়া, দলটির নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং আটক ব্যক্তিদের ছাড়াতে তদবিরের মতো ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়।

নির্বাচনের আগে দুই দলের তুলনায় বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্য বেশি ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের পর দেশের কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলার খবর আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে কার্যালয় খোলা হলেও পরে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও জুলাই বিপ্লবীরা সেগুলো ভাঙচুর করে তালাবদ্ধ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল, কথিত লকডাউন, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব ঘটনার পর সরকার গোয়েন্দা নজরদারি ও গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রমাণ প্রকাশের তাগিদ বিশ্লেষকদের

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে গোয়েন্দা তথ্যের কথা বলেছেন। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করতে সেই তথ্যের প্রমাণক তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পারস্পরিক অভিযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হওয়ার পথ খুঁজতে পারে। এতে সরকারের উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হবে; দেশ বা সরকার কারও লাভ হবে না। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যের সুযোগে আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়ে উঠলে তা কারও জন্যই ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল আমার দেশকে বলেন, অভিযোগগুলো কতটা গভীর তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে দুই পক্ষ থেকেই এ ধরনের বক্তব্য আসছে বলে তিনি মনে করেন।

এই বিশ্লেষকের মতে, পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চলতে থাকলে বিতাড়িত রাজনৈতিক গোষ্ঠীই সুবিধা পাবে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই দুই পক্ষের সংযত হওয়া এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad