১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্য, শেষ পর্যায়ে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের কাজ
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরে নির্মাণাধীন দেশের বৃহত্তম পরিবর্তিত ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্পটি চালু হলে জাতীয় মহাসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে নির্মাণকাজের প্রায় ৬২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২টি জেলার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। এটি দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক—ডি-৫, ডি-৪০৫ ও ডি-৫০৭-এর সংযোগস্থলে অবস্থিত। পাশাপাশি ১০টি স্থলবন্দর, চারটি বিমানবন্দর ও চারটি নদীবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই ইন্টারচেঞ্জ।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিরসন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এই পরিবর্তিত ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এতে ভ্রমণের সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়বে।
প্রকল্পে স্থানীয় মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য আন্ডারপাস, ফুটপাত ও জংশন পয়েন্ট বাস বে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া একটি আধুনিক হাইওয়ে সার্ভিস এরিয়া এবং অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ (ওঅ্যান্ডএম) ভবনের কাজও চলমান রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোং লিমিটেড প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। তিন বছর মেয়াদি নির্মাণকাজ শেষে প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী ছয় বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও সাসেক-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, “যমুনা বহুমুখী সেতুর পশ্চিম পাশে অবস্থিত এবং উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হাটিকুমরুল মোড়ে নির্মিত এই ইন্টারচেঞ্জ আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বর্তমানে নির্মাণকাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”
তিনি জানান, সব সার্ভিস লেনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে চালক ও যাত্রীরা এখন থেকেই প্রকল্পটির সুফল পাচ্ছেন। ঈদুল আজহার আগেই ঢাকা থেকে বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহনের জন্য সরাসরি র্যাম্প চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ড. ওয়ালিউর রহমান আরও বলেন, “এই প্রকল্পে প্রথমবারের মতো ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যাত্রী ও চালকদের জন্য বিশ্রামাগার, মোটরসাইকেল ও সাইকেলের জন্য পৃথক লেন থাকবে। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি কমবে এবং যানজটও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”
প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পকে দেশের অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চালু হওয়ার পর এটি দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ইন্টারচেঞ্জ হিসেবে পরিচিতি পাবে।”
সাসেক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “দেশের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রকল্প চালু হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর হবে।”

মোঃ জাকির হোসাইন,সম্পাদক