বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করে এর বর্তমান জনবল দিয়ে নতুন নামে এসআরবি গঠন করা হলে তা মূলত নতুন মোড়কে র্যাবকে ফিরিয়ে আনার শামিল হবে। এটি র্যাবের পুনর্গঠন ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি বলেন, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে যে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অনুরোধ থাকবে, এই বিলটি উত্থাপনের অনুমতি যেন না দেওয়া হয়। আমরা এর উত্থাপনের জোরালো বিরোধিতা জানাচ্ছি।’
র্যাবের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে বিরোধীদলের চিফ হুইপ বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’-এর ঘটনায় র্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নির্বাচনপূর্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ র্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নির্বাচনের আগে বিএনপিও সংবাদ সম্মেলনে র্যাব বিলুপ্ত করার কথা জানিয়েছিল। তবে তখন র্যাব বিলুপ্ত করে একই আদলে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়নি।
র্যাবের কাঠামো ও কার্যক্রম প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও এ বাহিনীতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে রাজনৈতিকীকরণের মাধ্যমে নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশের কোনো বিশেষায়িত ইউনিটের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না এবং থাকলে তার কাঠামো ও কার্যক্রম কী হবে, তা সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
র্যাবকে ‘ফ্যাসিবাদী আমলের দাগ, ক্ষতচিহ্ন ও আতঙ্ক’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমে পরিপূর্ণভাবে র্যাব বিলুপ্ত করতে হবে। এরপর নতুন কোনো বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজন হলে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে বিল আনা যেতে পারে।
বক্তব্যের শেষেও তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসআরবি বিলটি সংসদে উত্থাপনের অনুমতি যেন দেওয়া না হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক