জনবল সংকটে রায়গঞ্জে ৯টি ভূমি অফিস, ব্যাহত হচ্ছে ভূমি সেবা

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৫ বিকাল
  • ৫৮৯৪১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুলোতে জনবল সংকটের কারণে সেবা নিতে আসা মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও জমি বিক্রি কিংবা হস্তান্তরের মতো কাজও সম্পন্ন করতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।

এই উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে ৯টি ভুমি অফিসে ১৮জন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পদের বিপরীতে ৭জন কাজ করছেন। ফলে বাকী ১১টি পদ শূন্য থাকায় স্থানীয় লোকজন ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

অফিসগুলো সূত্রে জানা গেছে, এই ৯টি অফিসে মোট ৯ টি ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ১৮জন উপ-সহকারী কর্মকর্তা এবং ১৮টি অফিস সহায়ক পদ থাকার কথা থাকলেও প্রায় পদগুলো রয়েছে শূন্য।

ফলে উপজেলার ভূমি অফিসগুলোর কাজে স্থবিরতার কারণে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাতে বসেছে বলে এলাকার সচেতন মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ভূমি সেবা। প্রায় দিনই ভূমির মালিকরা অফিসে খাজনা দিতে গিয়ে ভূমি অফিসের সার্ভার সমস্যা বরাবরই লেগেই থাকছে। জমির খাজনা দিতে অফিস গুলো জমির মালিকদের নোটিশ জারি করে খাজনা পরিশোধের তাগিদ দিচ্ছে। এতে করে জমির মালিকরা খাজনা দিতে গিয়ে সময় মত কাজ করতে না পেরে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। লোকবল সংকট ও খাজনা দিতে সার্ভারের সমস্যায় দাখিলা, খারিজ, নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছে জমির মালিকরা।

সরেজমিনে সাহেবগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখাযায় ১জন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার পদ থাকলেও সেটি শূন্য রয়েছে। ২জন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছে ১জন। অফিস সহায়ক ২টির মধ্যে রয়েছে ১ জন।

এই ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি উপজেলা নিবার্হীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি। জনবল কম হওয়ার কারণে সব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। দাপ্তরিক কাজে বা সেবাগ্রহীতাদের আবেদনে মাঠ পর্যায়ে তদন্তে গেলে অফিসের কাজগুলো আটকে থাকে। এতে করে সেবা গ্রহীতাদের সেবা পেতে বিঘ্নতা ঘটে। আমরা আশাবাদী শীঘ্রই শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবা প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দৈনন্দিন সেবা পেতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় দরকারি কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং সেবা নেওয়া সহজ হচ্ছে না। এছাড়া জমি বিক্রি কিংবা হস্তান্তরের মতো কাজও সম্পন্ন করতে পড়তে হয় নানা মুখী সমস্যায়। এতে করে ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হুমায়ুন কবির উপজেলায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র পেলে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

রায়গঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষ দাবি, শীঘ্রই এই জনবল সংকট সমাধান হবে, তারা সহজেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূমি সম্পর্কিত সেবা গ্রহণ করতে পারেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad