দেশে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ বুধবার (২১ অক্টোবর)। ১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখে আসছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর শিক্ষার্থীর চাপ কমানো এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কলেজশিক্ষার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
অধিভুক্ত ২ হাজার ৩১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ৩১৮টি কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন এক লাখের বেশি শিক্ষক। দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পরিচালিত হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী। তাঁদের অনেকে দেশে-বিদেশে শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক পরিবারের তরুণ-তরুণীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সেশনজট নিরসনে উদ্যোগপরিবর্তনশীল বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানো এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্রম আধুনিকীকরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, সেশনজট নিরসন এবং গবেষণার সুযোগ বাড়ানো।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশেষ আয়োজন৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। মূল ক্যাম্পাস ও নগর কার্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন ভবনে ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়ার আয়োজনও করা হয়েছে।
১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ৩৭ নম্বর আইন পাসের পরদিন গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্জন স্মরণ করার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, গবেষণার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রত্যাশা সামনে এসেছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক