ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি সমঝোতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক একটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা গ্রহণের ঘোষণা দেয়নি।
চুক্তিটি সই হলে যুদ্ধ শুরুর পর এটিকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরমাণু-সংক্রান্ত শর্ত মেনে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও দীর্ঘ আলোচনা প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এটি মূলত দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখার একটি কাঠামোগত সমঝোতা। বিস্তারিত বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।”
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গত ২৬ মে পর্যন্ত চুক্তির প্রায় সব শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। পরে ইরান আলোচকদের জানায়, তাদের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে এবং তারা চুক্তি সইয়ে প্রস্তুত। যদিও তেহরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
কর্মকর্তারা জানান, সমঝোতার খসড়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এর অর্থ, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো টোল বা অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হবে না এবং হয়রানিও করা হবে না। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণের কথাও বলা হয়েছে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে। এছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সমঝোতা স্মারকে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অন্যত্র স্থানান্তর এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির সীমা নির্ধারণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
এছাড়া মানবিক সহায়তা ও পণ্য সরবরাহের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা তৈরির বিষয়েও আলোচনা থাকবে। একই সঙ্গে Lebanon-এ Hezbollah ও Israel-এর চলমান উত্তেজনা নিরসয়ের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে সমঝোতার আলোচনা চলাকালেও গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তত দু’টি ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “ইরানের সামনে তাদের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনা থেকেই বোঝা যাবে তারা সত্যিই ভিন্ন পথে হাঁটতে চায় কি না।”
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তহবিল ছাড়ের বিষয়ে কোনো গোপন সমঝোতা হবে না। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরান যত বেশি ছাড় দেবে, তত বেশি সুবিধা পাবে।
এদিকে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এমওইউ গ্রহণের কথা জানায়নি। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন, চুক্তি সইয়ের বিষয়ে তার কোনো তাড়া নেই।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক