ড্রোন ভূপাতিতের জবাবে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু রাডার ও ড্রোন ঘাঁটি
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা; গোরুক ও কেশম দ্বীপে হামলার দাবি সেন্টকোমের
ইরানের দুটি কৌশলগত দ্বীপ গোরুক ও কেশমে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকোমের দাবি, দ্বীপ দুটিতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্থাপিত রাডার ব্যবস্থা ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, হামলায় ইরানের একটি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এমন এক সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে।
দীর্ঘদিনের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
পরে ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও উভয় পক্ষই এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে সীমিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার পথ অনুসরণ করছে।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক