বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, আদর্শ ও রাষ্ট্রগঠনে তার অবদান সম্পর্কে জানতে হবে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের জীবনাদর্শ অনুসরণ করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাষ্ট্র নির্মাণে জিয়াউর রহমানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংকটময় সময়ে তার সাহসী ভূমিকা ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান মুক্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে দেশে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে জিয়াউর রহমান কার্যকর ভূমিকা পালন করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মঈন খান বলেন, স্বল্প সময়ের শাসনামলেও জিয়াউর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগানো গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কৃষি খাতের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়নের বিষয়েও জিয়াউর রহমান ছিলেন আন্তরিক উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
সভায় জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার