পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন শুরু হয়েছে। বুধবার উদ্বোধন হওয়া এ সম্মেলনের শিরোনাম “ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন পাওয়ার, ইলেকট্রনিক্স, কমিউনিকেশনস, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার–২০২৬”।
সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, পাওয়ার ও এনার্জি সিস্টেম, আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, স্মার্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ভিএলএসআই ও এমবেডেড সিস্টেমসহ সমসাময়িক প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সম্মেলনের প্রথম দিনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের আইজু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জুংপিল শিন। দিনব্যাপী মোট শতাধিক গবেষক প্রায় ১৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে মোট ৩৯টি সেশনে ৩০৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (University Grants Commission of Bangladesh) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে সক্ষমতার ওপর। তিনি গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এ ধরনের সম্মেলন দেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে সহায়তা করবে এবং নতুন উদ্ভাবনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও Pabna University of Science and Technology–এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষাদানের কেন্দ্র নয়, বরং সামাজিক সমস্যার সমাধান ও জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে। তিনি গবেষণার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গবেষকদের জন্য এটি বড় সুযোগ, যা কাজে লাগাতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ বুয়েটের খ্যাতনামা গবেষকেরা।
আয়োজকরা জানান, এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক