প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে তরুণদের অবস্থান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ জুন ২০২৬, ১০:২০ দুপুর
  • ২১১৭০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও তরুণদের একাংশ রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে যন্তর মন্তরে অবস্থান করছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ও ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন। পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যেও দ্বিতীয় দিনে আন্দোলনে নতুন নতুন অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন।

এই আন্দোলনের উদ্যোক্তা অভিজিৎ দিপকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ভারতে ফেরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই উদ্যোগকে তিনি মাঠপর্যায়ে নিয়ে আসেন। তরুণদের শিক্ষা ও চাকরি সংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভকে কেন্দ্র করেই আন্দোলনটি গড়ে উঠেছে।

ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, এসব ঘটনার দায় সরকারের এড়ানোর সুযোগ নেই।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ধারণাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে শুরু হয়। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে অভিজিৎ দিপকে এ নিয়ে অনলাইনে প্রচারণা শুরু করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। বর্তমানে সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি অনুসারী রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শচীন কুমার জানান, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাঁর ভাষায়, “শিক্ষার্থীরা হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, অথচ তাদের দুর্ভোগের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারত সরকার সাময়িকভাবে টেলিগ্রাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও সমালোচকেরা এটিকে সাময়িক ও অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে আন্দোলনস্থলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। তবে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলনের নেতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, “সরকার যদি মনে করে সময়ক্ষেপণ করে আমাদের ক্লান্ত করে দেবে, তাহলে তারা ভুল করছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

সূত্র: আল জাজিরা




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad