সংসদে এটিএম আজহারের কড়া বক্তব্য: ‘জুডিশিয়াল কিলিংয়ের’ বিচার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ রাত
  • ২৮১৫০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এটিএম আজাহারুল ইসলাম দলের শীর্ষ নেতাদের কথিত ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, ইসলামী অর্থব্যবস্থার প্রসার এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোববার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এটিএম আজহার বলেন, জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীকে ‘মিথ্যা মামলায়’ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, শুধু এই পাঁচজন নন, দলের আরও ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা কারাগারে চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর নামও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ১১ নেতাকে এভাবে হারানোর নজির বিরল।

বাজেট প্রসঙ্গে এটিএম আজহার বলেন, জনগণের কল্যাণই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণনির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ে সংকোচনের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুদভিত্তিক অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার সুকুক বা ইসলামী বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।

দুর্নীতিকে দেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, গত ১৭ বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। তাই শুধু উন্নয়ন নয়, সৎ নেতৃত্ব ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। সংসদের সব সদস্য দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার করলে দেশ থেকে দুর্নীতি অনেকাংশে দূর করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব না দিলে সৎ ও আদর্শবান নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিরোধী দলের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে এটিএম আজহার বলেন, সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য রয়েছে। এতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ, কাঁচা সড়ক পাকা করা এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad