২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হারলেও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি হয়ে উঠেছেন ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত নাম। আটলান্টার স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে তিনি এমন এক অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।
৩১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে দীর্ঘ সময় এগিয়ে ছিল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। এরপর ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইনদের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে যেন অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান এমপাসি। একের পর এক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে তিনি দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন।
তবে শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে নাটকীয় জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। তবুও পরাজয়ের আড়ালে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকেন এমপাসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকেরা তাকে আখ্যা দেন—‘অ্যাবসোলিউট ব্রিক ওয়াল’ বা ‘আস্ত এক ইটের দেয়াল’।
সংগ্রাম থেকে বিশ্বমঞ্চে
১৯৯৪ সালের ১ আগস্ট ফ্রান্সে কঙ্গোলিজ বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া এমপাসির ফুটবলযাত্রা শুরু হয় প্যারিসের শহরতলিতে। শৈশবে পিএসজি ও তুলুসের একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পরে রদেইজ ক্লাবে যোগ দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ১৩০টিরও বেশি ম্যাচে মাঠে নেমে দলকে লিগ টুতে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
একজন গোলরক্ষক হয়েও ২০২৪ সালে লরিয়েন্তের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি, যা ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। এরপর ২০২৫ সালে ফরাসি শীর্ষ লিগের ক্লাব ল্য হাভরে যোগ দিয়ে আরও পরিণত পারফরম্যান্স উপহার দেন।
ফ্রান্স নয়, বেছে নেন পিতৃভূমিকে
ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেললেও ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের পিতৃভূমি ডিআর কঙ্গোর জার্সি গায়ে অভিষেক হয় এমপাসির। ২০২৩ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি দলকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিশেষ করে মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টি নিজেই গোল করে দেশের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকেন তিনি।
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে কঙ্গোর প্রত্যাবর্তন
১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ডিআর কঙ্গো। গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র, কলম্বিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত আটটি সেভ এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে নকআউট নিশ্চিত করে দলটি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই কঙ্গোর সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন এমপাসি।
পরাজয়ের মাঝেও অমর এক পারফরম্যান্স
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয় না এলেও এমপাসির আত্মত্যাগ, অসাধারণ পজিশনিং, ক্ষিপ্রতা এবং ঠান্ডা মাথার নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকদের কাছে। পরাজিত দলের গোলরক্ষক হয়েও তিনি ম্যাচসেরার আলোচনায় উঠে আসেন।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ডিআর কঙ্গোর এই লড়াকু অভিযাত্রা এবং গোলপোস্টের নিচে লিওনেল এমপাসির অনন্য বীরত্ব দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স