বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আজ (শুক্রবার) জমে উঠছে আরেকটি হাইভোল্টেজ লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও মিসর। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা দুই দলের সামনে এটি ‘বাঁচা-মরার’ ম্যাচ। এই লড়াইয়ের বিজয়ী দল শেষ আটে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে।
দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ‘ডি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একই ব্যবধানে পরাজিত হয়। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে সকারুরা।
অন্যদিকে, ‘জি’ গ্রুপে অপরাজিত থেকে পাঁচ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শেষ ষোলোতে ওঠে মিসর। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে শুরু করা দলটি দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারায়। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। বেলজিয়ামের সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ‘দ্য ফ্যারাওস’দের।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। এখন পর্যন্ত মাত্র একবারই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল তাদের। ২০১০ সালের সেই ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল মিসর।
বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলার অভিজ্ঞতায় অবশ্য এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৬ ও ২০২২ সালের আসরেও শেষ ষোলোতে খেলেছিল তারা। সর্বশেষ বিশ্বকাপে পরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় দলটি। বিপরীতে, ১৯৩৪ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে মিসর। ২০১৮ বিশ্বকাপে তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নেওয়া আফ্রিকান দলটির জন্য এবারের পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে ইনজুরি দুই দলের জন্যই বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পপোভিচ কুঁচকির চোটে জ্যাকব ইতালিয়ানো এবং হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ম্যাথিউ লেকিকে পাচ্ছেন না। এরপরও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলা একাদশই ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। রক্ষণে দায়িত্ব পালন করবেন তরুণ সেন্টারব্যাক লুকাস হ্যারিংটন, আর আক্রমণের ভরসা ২০ বছর বয়সী প্রতিভাবান নেস্টরি ইরানকুন্ডা।
মিসরের দুশ্চিন্তা আরও বড়। দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগছেন। এছাড়া হামদি ফাথি, হোসাম আবদেলমাগুইদ, মোহাম্মদ আবদেলমোনেম ও আহমেদ এল ফুতুহের খেলাও অনিশ্চিত। এর সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার মহানাদ লাশিনকে পাচ্ছে না আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির পার্থক্য খুবই সামান্য। গ্রুপপর্বে উভয় দলই কিছু দুর্বলতা দেখিয়েছে। ফলে শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি হতে পারে টানটান উত্তেজনার এক লড়াই। তবে ইনজুরির ধাক্কা সামলে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলতে পারলে মিসর সামান্য এগিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের কৌশলে বাজিমাত করতে প্রস্তুত।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স